IQNA

23:29 - February 22, 2017
1
সংবাদ: 2602589
বাংলাদেশি নাগরিকদের সীমান্তে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেছেন, এ জাতীয় মৃত্যুর ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিএসএফের সর্বোচ্চ সতর্কতার পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে।
'বাংলাদেশ শক্ত প্রতিবাদ না করায় সীমান্তহত্যা বন্ধ হচ্ছে না'
বার্তা সংস্থা ইকনা: তবে বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মার দাবি- প্রাণঘাতী নয়, এমন কৌশল অবলম্বন করায় মৃত্যুর ঘটনা কমিয়ে আনা গেলেও অপরাধীগোষ্ঠী কর্তৃক বিএসএফ সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ‘নন-লেথাল’ অস্ত্র ব্যবহার করে বলে তিনি জানান।

ঢাকায় বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে ১৮-২২ ফেব্রুয়ারি ৫-দিনব্যাপী ৪৪তম সীমান্ত সম্মেলনের শেষপর্বে বিজিবি সদর দপ্তরে দুদেশের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দু'পক্ষের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোহসিন রেজা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সীমান্তে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে গবাদিপশু ও মাদক চোরাচালানপ্রবণ এলাকায় সমম্বিত যৌথ টহল বৃদ্ধি এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিধি-নিষেধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ কর্তৃক যৌথ পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হন।

এ প্রসঙ্গে বিডিআর- এর সাবেক মহাপরিচালক জেনারেল (অব) ফজলুর রহমান রেডিও তেহরানক বলেন, ভারত  বাংলাদেশকে সর্বদা একট চাপের মধ্যে রাখতে  চায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শক্ত প্রতিবাদ হয় না বলে সীমান্তে হত্যা বন্ধ হচ্ছে না।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেনের নেতৃত্বে ২৬ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এবং বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করে। প্রতিনিধি দলে উভয় বাহিনীর ঊর্ধতন কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন, বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশন, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নতুন ক্যাম্প নির্মাণে ভারত তাদের সীমান্ত সড়ক ব্যবহার করতে দিয়েছে। সমন্বিত সীমান্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জাল টাকা, গবাদিপশু, কাপড় ইত্যাদি পাচার প্রতিরোধে দুদেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সীমান্তে সব ধরনের পাচার রোধ ও জঙ্গি আস্তানা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, ভারত থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ও অস্ত্র গোলাবারুদ চোরাচালান প্রতিরোধে দুদেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

পরিবেশ দূষণরোধে ভারতের আগরতলা প্রান্তে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট (ইটিপি) এবং বাংলাদেশের আখাউড়া প্রান্তে বক্স কালভার্টসহ ড্রেনেজ নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানান বিএসএফ মহাপরিচালক। সেই সঙ্গে স্থানটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হিসেবে গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সম্মেলনে উভয় মহাপরিচালক পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে যৌথ প্রশিক্ষণ, অনুশীলন, দুঃসাহসিক প্রশিক্ষণ, কায়াকিং, র‌্যাফটিং, সাইক্লিং, রোয়িং, মাউন্টেইন ক্লাইম্বিং ইত্যাদি পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে একমত হন। দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের পরবর্তী সম্মেলন অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবার কথাও জানানো হয় এ সময়।

পার্সটুডে
ট্যাগ্সসমূহ: নাগরি ، বাংলাদেশ ، ইকনা ، ভারত
প্রকাশিত: 1
পর্যালোচনা করা হচ্ছে: 0
প্রকাশযোগ্য নয়: 0
kjmptgnl
0
0
20
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: