IQNA

কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন ব্যক্তিদের চরিত্র/ ১৪

হযরত ইব্রাহীম (আ.)এর মুনাজিরার পদ্ধতি

0:03 - November 12, 2022
সংবাদ: 3472808
তেহরান (ইকনা): বিরোধিতাকারী দলগুলো যদি যৌক্তিকভাবে একে অপরের মুখোমুখি হয়, তাহলে তারা মুনাজিরা করেন অর্থাৎ বিতর্ক ও সংলাপে জড়িয়ে যায়; এই ক্ষেত্রে, তারা হয় কমন গ্রাউন্ডে পৌঁছায় অথবা যুক্তির মাধ্যমে অন্য পক্ষকে পরাজিত করে নিজের মতামত গ্রহণ করাতে বাধ্য করেন। এই ইস্যুটির একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ হল বিরোধী দলগুলোর সাথে হযরত ইব্রাহীম (আ.)এর মুনাজিরা বা বিতর্ক।

হযরত ইব্রাহিম (আ.) এমন এক যুগে বাস করতেন যখন মূর্তিপূজা ব্যাপক ছিল, কিন্তু তিনি মূর্তিগুলিতে বিশ্বাস করতেন না এবং মূর্তিগুলির অকার্যকরতা দেখানোর জন্য প্রতিটি সুযোগ ব্যবহার করতেন। ইব্রাহিমের (আ.) তাবলিগের একটি পদ্ধতি ছিল মুনাজিরা বা যুক্তির সাথে বিতর্ক ও কথোপকথন। তিনি প্রায়ই তার অভিভাবক আজর, যিনি একজন পৌত্তলিক ছিলেন তার সাথে মুনাজিরা ও তর্ক করতেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.) মূর্তিগুলি চূর্ণ করার পরে, তিনি সেই যুগের রাজা নমরুদের সাথে মুনাজিরায় লিপ্ত হন। এক সময়, তিনি এমন লোকদের সাথে বিতর্ক করেছিলেন যারা সূর্য, চন্দ্র এবং তারার পূজা করত।
ইব্রাহিম (আ.) তার মুনাজিরায় কার্যকর পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। উদাহরণস্বরূপ, ইব্রাহিম (আ.) মুশরিক এবং পৌত্তলিকদের তাদের কাজের দুর্বলতা এবং ত্রুটিগুলি উপলব্ধি করতে যৌক্তিক প্রশ্ন ব্যবহার করেছিলেন। ইব্রাহিম আযরের সাথে এভাবে মুনাজিরা করেন:

«يَا أَبَتِ إِنِّي قَدْ جَاءَنِي مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ يَأْتِكَ فَاتَّبِعْنِي أَهْدِكَ صِرَاطًا سَوِيًّا»

হে আমার পিতা! নিশ্চয়ই আমার নিকট এমন জ্ঞান এসেছে যা তোমার কাছে আসেনি; সুতরাং আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করব। সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৪৩।
তিনি পৌত্তলিকদের তাদের বিশ্বাস নিয়ে সন্দেহ করার জন্য প্রশ্নও করেছিলেন এবং তারপরে তাদের ভুলের মুখোমুখি করেছিলেন:

«إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا تَعْبُدُونَ؛ قَالُوا نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَاكِفِينَ؛ قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ؛ أَوْ يَنْفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ؛ قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا آبَاءَنَا كَذَلِكَ يَفْعَلُونَ»

সে যখন তার (পালক) পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা কার উপাসনা কর?’। তারা বলল, ‘আমরা মূর্তিপূজা করি এবং সদা তাদেরই উপাসনায় রত থাকি।’ সে বলল, ‘তোমরা যখন তাদের আহ্বান কর, তারা কি তা শোনে? অথবা তোমাদের কোন উপকার বা অপকার করে?’। তারা বলল, ‘আমরা আমাদের পিতৃ-পুরুষদের এরূপই করতে দেখেছি।’ সূরা শুআরা, আয়াত: ৭০ থেকে ৭৪।
মুনাজিরার ক্ষেত্রে হযরত ইব্রাহিম (আ.) অন্যান্য পদ্ধতি যেমন তুলনা, যুক্তি এবং প্ররোচনা ব্যবহার করতেন। ইব্রাহিম (আ.)-এর সবচেয়ে সুন্দর মুনাজিরা একটি ছিল তারকা পূজারিদের মুখে। এই গোষ্ঠীকে বোঝানোর জন্য, তিনি প্রথমে নিজেকে একজন তারকা উপাসক হিসাবে পরিচয় করিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি এই বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এবং অবশেষে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে শুধুমাত্র আল্লাহই উপাসনার যোগ্য:

«فَلَمَّا رَأَى الْقَمَرَ بَازِغًا قَالَ هَذَا رَبِّي فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لَئِنْ لَمْ يَهْدِنِي رَبِّي لَأَكُونَنَّ مِنَ الْقَوْمِ الضَّالِّينَ؛ فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَذَا رَبِّي هَذَا أَكْبَرُ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ».

অতঃপর যখন সে চাঁদকে উদিত হতে দেখল তখন সে বলল, ‘এটা আমার প্রতিপালক’; কিন্তু যখন তা অস্তমিত হল, তখন সে বলল, ‘যদি আমার প্রতিপালক আমাকে পথ প্রদর্শন না করতেন, তবে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।’ অতঃপর যখন সূর্যকে উদিত হতে দেখল তখন বলল, ‘এটা আমার প্রতিপালক। এটা তো সর্ববৃহৎ।’ কিন্তু যখন সেটা অস্ত গেল তখন বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যে সকল বস্তুকে (আল্লাহর) অংশী রূপে গ্রহণ কর সেসব থেকে আমি সম্পর্কহীন।
সূরা আনআম, আয়াত: ৭৭ ও ৭৮।
মুনাজিরায়, হযরত ইব্রাহিম (আ.) সাহসিকতার সাথে হুমকি এবং বিপদের ভয় ছাড়াই তার মতামত প্রকাশ করেছিলেন, তবে এই অভিব্যক্তিটি ছিল সম্পূর্ণ শান্ত এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে, যা শ্রোতাদের মধ্যে তার কথার শক্তি এবং কার্যকারিতা বাড়িয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট খবর
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha