IQNA

কুরআনের সূরাসমূহ / ৪২

পরামর্শের জন্য জিজ্ঞাসা; মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য

0:03 - December 02, 2022
সংবাদ: 3472915
তেহরান (ইকনা): একজন মুমিনের জন্য অনেক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে, যার প্রতিটিরই গুরুত্ব রয়েছে। অন্যদের সাথে পরামর্শ করা এই বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে একটি; তবে মনে হয় এই বৈশিষ্ট্যটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে কারণ এই শিরোনামে কুরআনের একটি সূরার নাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

পবিত্র কুরআনের ৪২তম সূরার নাম শূরা। ৫৩টি আয়াত বিশিষ্ট এই সূরাটি পবিত্র কুরআনের ২৫তম পারায় অবস্থিত। এই মাক্কী সূরাটি নাযিলের ক্রমানুসারে ৬৩তম সূরা যা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এর উপর নাযিল হয়েছে।
এই সূরাটি "শূরা" নামকরণের কারণ হল এই শব্দটি ৩৮ নম্বর আয়াতে ইমানদারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছ। এই আয়াতে বলা হয়েছে:


وَالَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَ‌بِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَمْرُ‌هُمْ شُورَ‌ى بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَ‌زَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ


যারা তাদের পালনকর্তার আদেশ মান্য করে, নামায কায়েম করে; পারস্পরিক পরামর্শক্রমে কাজ করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।
সূরা শূরার কেন্দ্রীয় বিষয় এবং মূল লক্ষ্য হল ওহীর বিষয় এবং একেশ্বরবাদী আয়াতের বিবৃতি এবং মু’মিন ও কাফেরদের বৈশিষ্ট্য এবং কীভাবে তাদের পুনরুত্থান করা হবে তা সূরার অন্যান্য লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে।
আল্লাহর রসূল (সা.)-কে দ্বীনের প্রচারে অটল থাকার উপদেশ দেওয়া, মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, ধর্মের ঐক্য, আল্লাহর দ্বীনে বিভেদ ও মতভেদ থেকে মানুষকে নিষেধ করা, অন্যের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করা এবং নিজের ক্রোধ কাটিয়ে ওঠার উপদেশ দেওয়া এই সূরার অন্যান্য অন্যতম বিষয়।
সূরা শূরাতে একেশ্বরবাদ, পুনরুত্থান, তওবা, আল্লাহর পক্ষ হতে তাওবা কবুল এবং সমাজ ও সরকার সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা করার নির্দেশের মতো বিষয়গুলোও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সূরার বিষয়গুলোকে চার ভাগে ভাগ করা যায়:
প্রথম অংশ, যা এই সূরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, নবীদের সাথে আল্লাহর ওহী এবং যোগাযোগ সম্পর্কে। এই বিষয়টি সূরা শূরার সব অংশেই দেখা যায়। এটি এই বিষয় দিয়ে শুরু হয় এবং এটির সাথেই শেষ হয় এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিষয় যেমন কুরআন, ইসলামের নবী (সা,)এর নবুওয়ত এবং নূহ (আ.)এর সময় থেকে রিসালাতের সূচনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অংশে একেশ্বরবাদের কারণ এবং সৃষ্টি জগতে আল্লাহর নিদর্শন উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয় অংশটি পুনরুত্থানের সমস্যা এবং পুনরুত্থানে কাফেরদের পরিণাম নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
এবং পরিশেষে, চতুর্থ অংশটি অধ্যবসায়, অনুতাপ, ক্ষমা, তওবা, ধৈর্য ধারণ এবং ক্রোধ দমনের মতো নৈতিক বিষয়গুলিকে নির্দেশ করে এবং তাদের আমন্ত্রণ জানায় এবং একগুঁয়েমি, পার্থিবতা এবং অহংকার মতো অস্বস্তিকর বৈশিষ্ট্যগুলিকে নিষেধ করা হয়েছে।

ট্যাগ্সসমূহ: কুরআনের সূরাসমূহ
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha