IQNA

22:56 - February 25, 2021
সংবাদ: 2612328
তেহরান (ইকনা): আমিরুল মু'মিনীন হযরত আলী (আঃ)’র শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের স্বর্গীয় আলোকোজ্জ্বল প্রভা যুগ যুগ ধরে ইতিহাসের পরতে পরতে আদর্শ মুমিনের কর্মতৎপরতার গভীরে অতুলনীয় ও ক্রমবর্ধমান প্রভাব সৃষ্টি করে চলেছে। এই মহাপুরুষের পবিত্র জন্মদিনে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত বিশেষ করে হযরত আলী (আ)'র নুরানি সত্তার শানে পেশ করছি অশেষ দরুদ ও সালাম।
মহানবীর (সা.)এর একমাত্র উত্তরাধিকারী ইমাম আলী (আ.)'র জন্মবার্ষিকীহযরত আলী(আ) জন্ম নিয়েছিলেন পবিত্র কাবা ঘরে হিজরতের তেইশ বছর আগে ১৩ই রজব এবং শাহাদত বরণ করেছিলেন কুফার পবিত্র মসজিদের মেহরাবে হিজরি ৪০সনের একুশে রমজানে।                                                                   
 
আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী (আ.)'র মহত ও সুন্দর ব্যক্তিত্ব এত বিশাল বিস্তৃত ও এত বিচিত্রময় যে একজন মানুষের পক্ষে তাঁর সব বৈশিষ্ট্য ও পরিধি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করাও সম্ভব নয়। মানুষ কল্পনার ফানুস উড়াতে পারবে কিন্তু এর কিনারার নাগালও পাবে না। 
 
মানুষের মনে উত্তেজনা ও প্রভাব সৃষ্টিতে  আমিরুল মু' মিনিন আলী (আ.)'র সুবিশাল ব্যক্তিত্ব ও মহত্ত্ব ইতিহাসে দখল করে আছে অনন্য ও শীর্ষস্থানীয় অবস্থান। বিশ্বনবী (সা.)'র পর এ ব্যাপারে তিনি সত্যিই অপ্রতিদ্বন্দ্বী। খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতকে তথা হিজরি সপ্তম শতকে মুহাম্মাদ ইবনে শাহরাসুব আল-মাজান্দারানি নামের একজন মুসলিম পণ্ডিত ছিলেন। তার লাইব্রেরিতে " মানাকিব" বা "মহত গুণাবলী' শীর্ষক এক হাজার বই ছিল। আর এসবগুলোই ছিল হযরত আলী (আ.)'র মহত গুণাবলী সম্পর্কে লিখা। এ থেকেই বোঝা যায় আলী (আ.)'র ব্যক্তিত্ব ইতিহাসের কাল পরিক্রমায় কত অগণিত অসংখ্য মানুষকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে।
 
ভারত উপমহাদেশের বিশিষ্ট সূফী সাধক ও চিশতিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা খাজা মুঈনউদ্দিন চিশতী (র.) বলেছেন, সমুদ্রকে যেমন ঘটিতে ধারণ করা অসম্ভব তেমনি বর্ণনার মাধ্যমে আলী (আ.)'র গুণাবলী তুলে ধরাও অসম্ভব। হযরত আলী (আ.)'র চরিত্রে আমরা দেখতে পাই একজন দার্শনিকের বৈশিষ্ট্য, একজন বিপ্লবী নেতার বৈশিষ্ট্য, একজন সূফী শায়খের বৈশিষ্ট্য এবং নবী-রাসূলদের মধ্যে যেসব বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ থাকে তারও অনেক বৈশিষ্ট্য। 
 
হযরত আলী (আ) রাতে যখন তিনি আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হতেন তখন আল্লাহ ছাড়া আর কোনো কিছুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক থাকত না। আবার দিনে ছিলেন জনগণের মাঝে কর্মমুখর। দিনের বেলায় জনগণ তাঁর দয়া ও সততায় মুগ্ধ হতেন আর তাঁর উপদেশ, পরামর্শ ও জ্ঞানপূর্ণ কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। অন্যদিকে রাতে আকাশের তারকারাজি দেখত হযরত আলী (আ.) কিভাবে আল্লাহর ইবাদতে অশ্রু বিসর্জন করছেন আর আকাশ তাঁর প্রেমপূর্ণ মুনাজাত শুনত।
 
মহানবীর (সা.)এর একমাত্র উত্তরাধিকারী ইমাম আলী (আ.)'র জন্মবার্ষিকী
 
হযরত আলী (আ.) একাধারে একজন জ্ঞানী, প্রাজ্ঞ, রহস্যবাদী ব্যক্তি, সমাজের নেতা, আত্মসত্তা বিসর্জনকারী ব্যক্তি, মুজাহিদ, বিচারক, শ্রমিক, একজন বাগ্মী ও লেখক। তাঁর সব আকর্ষণীয় গুণ নিয়ে তিনি ছিলেন পূর্ণতার সব অর্থেই একজন পূর্ণাঙ্গ মানব।
 
বিশ্বনবী (সা.)'র একটি হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী আলী(আ.)-কে পুরোপুরি বা পরিপূর্ণভাবে চেনেন কেবল আল্লাহ ও তাঁর সর্বশেষ রাসূল (সা.) এবং আল্লাহ ও তাঁর সর্বশেষ রাসূল (সা.)-কে ভালভাবে চেনেন কেবল আলী (আ.)।
 
 
হযরত আলী (আঃ) ছিলেন সেই ব্যক্তিত্ব যার সম্পর্কে রাসূলে পাক (সা:) বলেছেন, মুসার সাথে হারুনের যে সম্পর্ক তোমার সাথে আমার সেই সম্পর্ক, শুধু পার্থক্য হল হারুন (আঃ) নবী ছিলেন, তুমি নবী নও।
 
মহানবী (সাঃ) আরো বলেছেন: হে আম্মার! যদি দেখ সমস্ত মানুষ একদিকে চলে গেছে, কিন্তু আলী চলে গেছে অন্য দিকে, তবুও আলীকে অনুসরণ কর, কারণ, সে তোমাকে ধ্বংসের দিকে নেবে না। -বিশ্বনবী (সাঃ) আরো বলেছেন:
 
* আমি আলী থেকে, আর আলী আমার থেকে, যা কিছু আলীকে কষ্ট দেয়, তা আমাকে কষ্ট দেয়, আর যা কিছু আমাকে কষ্ট দেয় তা আল্লাহকে কষ্ট দেয়।
 
* হে আলী! ঈমানদার কখনও তোমার শত্রু  হবে না এবং মোনাফেকরা কখনও তোমাকে ভালবাসবে না।- অনেক সাহাবী এ হাদিসের ভিত্তিতেই মোনাফেকদের সনাক্ত করতেন।
 
 রাসূলে পাক (সাঃ)'র  স্ত্রী আয়েশা বিনতে আবুবকর হযরত আলী (আঃ)'র শাহাদতের খবর শুনে বলেছিলেন,
 
"হে রাসূল! তোমার সবচেয়ে প্রিয়পাত্র শাহাদত বরণ করেছেন। আজ এমন এক ব্যক্তি শহীদ হয়েছেন যিনি ছিলেন রাসূল (সাঃ)'র পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।
 
আর এইসব বাণী থেকে এটা স্পষ্ট যে আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী (আ.) ছিলেন বিশ্বনবী (সা.)'র পর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব।
 
আলী (আ.) এমন এক নাম যাঁর নাম উচ্চারণ ও যাঁর বরকতময় জীবনের আলোচনা মানুষের ঈমানকে তাজা করে দেয়। রাসূল (সা.) বলতেন, আলীর দিকে তাকানোও ইবাদত।   
 
হযরত আলী (আ.)'র আকাশ-ছোঁয়া বীরত্ব ও মহত্ত্ব কেবল মুসলিম কবি, সাহিত্যিক বা মনীষীদেরই প্রভাবিত করেনি, অমুসলিম পণ্ডিতরাও তার সুবিশাল ব্যক্তিত্বের ব্যাপকতায় অভিভূত ও হতবাক হয়েছেন। তাঁর মহত্ত্ব ও উদারতার প্রশংসা করে আর ডি ওসবোর্ন বলেছেন, আলী (আ.) ছিলেন মুসলমানদের ইতিহাসের সর্বোত্তম আত্মার অধিকারী সর্বোত্তম ব্যক্তি।
 
ওয়াশিংটন আরভিং বলেছেন, "সব ধরনের নীচতা ও কৃত্রিমতা বা মিথ্যার বিরুদ্ধে আলী (আ.)'র ছিল মহত সমালোচনা এবং আত্মস্বার্থ-কেন্দ্রিক সব ধরনের কূটচাল থেকে তিনি নিজেকে দূরে রেখেছিলেন।"
 
ঐতিহাসিক মাসুদির মতে, রাসূল (সা.)'র চরিত্রের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল যার ছিল তিনি হলেন আলী (আ.)। আমীরুল মুমিনীন আলী সম্পর্কে মাওলানা রুমী লিখেছেন,
 
 “সাহসিকতায় তুমি ছিলে খোদার সিংহ তা জানি
 
পৌরুষত্বে আর বদান্যতায় কি তুমি তা জানেন শুধুই অন্তর্যামী।”
 
 
আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আঃ) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অতুলনীয় ও শ্রেষ্ঠ বীরযোদ্ধা। আল্লাহর সিংহ বা আসাদুল্লাহ ছিল তাঁর উপাধি। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:)’র জীবদ্দশায় প্রায় প্রতিটি যুদ্ধে বিজয়ের তিনিই ছিলেন প্রধান স্থপতি। তাই বলা হয়, হযরত আলী (আঃ)’র তরবারি জুলফিক্বার ছাড়া ইসলামের কোনো বিজয়ই অর্জিত হতো না। বিশ্বনবী-সা: নিজেই তাঁকে এই দ্বিধারী তরবারী উপহার দিয়েছিলেন। বদর, ওহোদ, খন্দক, খায়বারসহ অনেক যুদ্ধের কিংবদন্তীতুল্য বীর আলী (আঃ) অনেকবার নিজ জীবন বাজি রেখে রাসূল (সা:)’র জীবন রক্ষা করেছিলেন। জিহাদের ময়দানে তাঁর উপস্থিতিই শত্রু-সেনার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো।  
 
আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আঃ)ছিলেন মজলুমের বন্ধু, অত্যাচারীর ত্রাস, মহানবী (সা:)’র জ্ঞান-নগরীর তোরণ, এতীম ও অনাথের সেবক, শ্রেষ্ঠ আবেদ, সাধকদের আদর্শ এবং একইসাথে সৎ-নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রতীক। তিনি ছিলেন সর্বযুগের সেরা নারী খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা (সা:)’র স্বামী।
 
 আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আঃ)’র মাধ্যমেই রক্ষিত হয়েছে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:)’র পবিত্র বংশধারা বা তাঁর পবিত্র আহলে বাইত যাঁদের অনুসরণ ছাড়া মুসলমানদের মুক্তি ও হেদায়েত সম্ভব নয় বলে বিশ্বনবী (সা.) জোর তাগিদ দিয়ে গেছেন। ইমাম আলী (আঃ)ই  বেহেশতী যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হোসাইনের পিতা।   মুসলিম উম্মাহর সর্বশেষ ইমাম তথা উম্মতের ত্রাণকর্তা হযরত ইমাম মাহদী আঃ’ও (মহান আল্লাহ তাঁর পুনরাবির্ভাব ত্বরান্বিত করুন) তাঁরই বংশধর।
 
উমর ইবনে খাত্তাব আলী (আ.)'র পরামর্শ ও জ্ঞানগত সহযোগিতার কাছে নিজের ঋণ স্বীকার করে বলেছেন,"আলী ইবনে আবি তালিবের মত আরেকজনকে গর্ভে ধারণ ও প্রসব করার ক্ষমতা নারীকুলের কারো নেই। আলী না থাকলে উমর ধ্বংস হয়ে যেত।"
 
 বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:) বলেছেন, আমি জ্ঞানের নগরী, আর আলী তার দরজা। হযরত আলী (আঃ) নিজেও বলেছেন, পবিত্র কোরআনের এমন কোনো আয়াত নেই যার শানে নজুল, ব্যাখ্যা বা তাৎপর্য সম্পর্কে আমি রাসূল (সা:)’র সাথে আলোচনা করি নি। পবিত্র কোরআনের তাফসীর, ফেক্বাহ, হাদিস ও কালাম শাস্ত্রসহ ইসলামের এমন কোনো শাস্ত্র নেই যে বিষয়ে তিনি শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন না।
 
সূক্ষ্ম বুদ্ধি ও কৌশলপূর্ণ নিখুঁত বিচারের জন্য হযরত আলী (আঃ)কে রাসূল (সা:)’র পর ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক বলা যেতে পারে। হযরত আলী (আঃ)কে আরবী ব্যাকরণের জনকও বলা হয়। কবিতা ও ভাষণসহ তাঁর চিঠিগুলো আরবী সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ এবং কালোত্তীর্ণ সম্পদ।
 
ইবনে আব্বাস রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: আলী আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং বিচারকার্যে সর্বোত্তম।
 
হযরত ইবনে আব্বাস বলেছেন, আলীর চারটি গুণ ছিল যা অন্য কারো ছিল না। আরব ও অনারবের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি রাসূলের সাথে সালাত আদায় করেছেন। দ্বিতীয়তঃ প্রত্যেক জিহাদেই তাঁর হাতে ঝান্ডা থাকতো। তৃতীয়তঃ লোকেরা যখন রাসূলের কাছ থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেত তখনও আলী তাঁর পাশেই থাকতো। চতুর্থতঃ আলীই রাসূল (সাঃ)কে শেষ গোসল দিয়েছিলেন এবং তাঁকে কবরে শায়িত করেছিলেন।
 
 হযরত আলী (আ.) ছিলেন এমন একজন পূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ যার মধ্যে সবগুলো মানবিক মূল্যবোধ সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বিকাশ লাভ করেছে।
 
সহনশীলতা ও ধৈর্যের ক্ষেত্রে তিনি  ছিলেন যেমন সর্বোচ্চ পর্যায়ের তেমনি সাহসিকতার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে। রক্তপাতের ক্ষেত্রে যেখানে কোন নিকৃষ্ট ব্যক্তির রক্ত ঝরাতে হবে সেখানে তিনি শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা, আবার ইবাদতের ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী।
 
জীরার ইবনে হামজা তাঁর প্রিয় নেতার গুণাবলী তুলে ধরতে গিয়ে বলেছিলেন, "আলীর ব্যক্তিত্ব ছিল সীমাহীন, তিনি ক্ষমতায় ছিলেন দোর্দণ্ড, তাঁর বক্তব্য ছিল সিদ্ধান্তমূলক, তাঁর বিচার ছিল ন্যায়ভিত্তিক, সব বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ছিল, তাঁর প্রতিটি আচরণে প্রজ্ঞা প্রকাশিত হত। তিনি মোটা বা সাদামাটা খাদ্য পছন্দ করতেন এবং অল্প দামের পোশাক পছন্দ করতেন। আল্লাহর কসম, তিনি আমাদের একজন হিসেবে আমাদের মাঝে ছিলেন, আমাদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতেন, আমাদের সকল অনুরোধ রক্ষা করতেন। তাঁর প্রতি সশ্রদ্ধ অনুভূতি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সম্বোধন করে কিছু বলতে  ও প্রথমে কথা বলতে আমরা ভয় পেতাম না। তাঁর হাসিতে মুক্তা ছড়িয়ে পড়তো। তিনি ধার্মিকদের খুব সম্মান করতেন। অভাবগ্রস্তের প্রতি খুবই দয়ালু ছিলেন। এতিম, নিকট আত্মীয় ও অন্নহীনকে খাওয়াতেন, বস্ত্রহীনে বস্ত্র দিতেন ও অক্ষম ব্যক্তিকে সাহায্য করতেন। তিনি দুনিয়া ও এর চাকচিক্যকে ঘৃণা করতেন। আমি আলী ইবনে আবি তালিবকে গভীর রাতে বহুবার মসজিদে দেখেছি যে তিনি সাপে কামড় খাওয়া মানুষের মত আর্তনাদ করে শোকাহত লোকের কেঁদে বলতেন, হে দুনিয়া, আমার কাছ থেকে দূর হও! আমাকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করো না!"
 
 .. .. ..  এরপর  জীরার বলেন, আলী (আঃ)'র অনুপস্থিতিতে আমি সেই মহিলার মতো শোকাহত যার সন্তানকে তার কোলে রেখে কেটে ফেলা হয়েছে।
 
শাহাদত-প্রেমিক আলী(আ.) যখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত, তাঁর সঙ্গীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, সবাই কাঁদছে, চারিদিকে ক্রন্দনের শব্দ, কিন্তু আলী (আ.)-এর মুখ হাস্যোজ্জ্বল। তিনি বলছেন, “আল্লাহর শপথ! আমার জন্য এর চেয়ে উত্তম কি হতে পারে যে, ইবাদতরত অবস্থায় শহীদ হব?” আলী (আ.) ইমাম হাসান (আ.)-কে বলেছিলেন,  “বাবা হাসান! আমার মৃত্যুর পর যদি চাও আমার হত্যাকারীকে মুক্তি দেবে তাহলে মুক্তি দিও, যদি চাও কিসাস গ্রহণ করবে তাহলে লক্ষ্য রাখবে, সে তোমার পিতাকে একটি আঘাত করেছে, তাকেও একটি আঘাত করবে। যদি তাতে মৃত্যুবরণ করে তো করল, নতুবা ছেড়ে দেবে।” -তারপর আবার বন্দির চিন্তায় মগ্ন হলেন আলী (আ.)। বন্দিকে ঠিক মতো খেতে দিয়েছ তো? পানি দিয়েছ খেতে? ঠিক মতো দেখাশোনা কর ওর। কিছু দুধ তাঁর জন্য আনা হলে কিছুটা খেয়ে বললেন, বাকীটা বন্দিকে দাও।
 
আলী (আ.) ছিলেন নিঃস্ব ও সম্পদহীন, অথচ সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা। দানশীল ছিলেন বলেই সম্পদ তাঁর হাতে গচ্ছিত থাকত না।  রাসূলুল্লাহ (সা.) যেমন মানুষের মুক্তির জন্য লালায়িত ছিলেন ও চাইতেন  মানুষের সব দুঃখ-কষ্ট দূর করে তাকে মুক্তি দিতে তেমনি আলী (আ.)ও ছিলেন প্রকৃত মানব-প্রেমিক।
 
মরহুম ইমাম খোমেনী (র.) মতে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা পদের চাকচিক্য  কখনই বিন্দুমাত্র আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারেনি ইমাম আলী (আ.)’র হৃদয়ে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা পদ তাঁর কাছে কখনও লক্ষ্য ছিল না, ছিল নানা মহৎ উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যম মাত্র। তিনি ইবনে আব্বাসকে বলেছিলেন, “ তোমাদের শাসক হওয়া আমার কাছে একটি জুতার চেয়েও কম মূল্যের বিষয়, অবশ্য এই শাসনের মাধ্যমে আমি যদি তোমাদের মধ্যে সত্য বা ইসলামকে প্রতিষ্ঠা ও বাতিল তথা অন্যায্য আইন ও ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করতে পারি তা ভিন্ন কথা।”  
 
আসলে আলী (আ.) ছিলেন সব ধরণের মানবিক মূল্যবোধের ময়দানে বিজয়ী বীর। মানবতার সবগুলো ময়দানেই তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ তথা আদর্শ ও পরিপূর্ণ মহামানব।
 
সবশেষে  হযরত আলী (আঃ)’র জন্মদিন উপলক্ষ্যে সবাইকে আবারও শুভেচ্ছা জানিয়ে এ মহাপুরুষের কয়েকটি দু'টি অমূল্য বাণী তুলে ধরছিঃ “প্রকৃত জীবন হচ্ছে মৃত্যুবরণের মাধ্যমে জয়ী হওয়া। আর প্রকৃত মৃত্যু হলো বেঁচে থেকেও নিকৃষ্ট ব্যক্তির অধীনে থাকা।”
 
প্রত্যেক বক্তব্য বা কথা যাতে আল্লাহর স্মরণ নেই তা হল অর্থহীনতা বা অন্তঃসারশূন্যতা, আর যে নীরবতার মধ্যে আল্লাহ নিয়ে কোনো চিন্তা নেই তা হচ্ছে উদাসীনতা বা মনোযোগহীনতা এবং যে চিন্তার মধ্যে আল্লাহর প্রতি দৃষ্টি নেই তা হচ্ছে অনর্থক সময় নষ্ট করা। পার্সটুডে
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: