IQNA

কুরআন কি বলে/৯

আপনি কি আপনার শত্রুকে চেনেন?

17:17 - June 18, 2022
সংবাদ: 3472009
তেহরান (ইকনা):  মহান আল্লাহ যখন মানুষকে সৃষ্টি করেন, তখন এক অহংকারী প্রাণী তার সাথে শত্রুতা শুরু করে।

মহান আল্লাহ যখন মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন এবং তার মধ্যে তার আত্মা ফুঁকেছিলেন, তখন মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ জীব বলে অবিহিত করা হয়েছে। কারণ তার মধ্যে এমন পূর্ণতা পৌঁছানোর ক্ষমতা ছিল, যা অন্য প্রাণীর পক্ষে সম্ভব ছিল না। মানুষকে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তায়ালা সকল ফেরেশতাদের সিজদা করতে বললেন। তখন শয়তান আল্লাহর এই নির্দেশকে অমান্য করে এবং নিজেকে মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে সিজদা করতে অস্বীকার করে। আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার ফলে শয়তান আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয় এবং তাকে সেখান থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এই কারণে, শয়তান মানুষের শত্রু হয়ে ওঠে এবং মানুষকে পরিপূর্ণতার পথ (আল্লাহর নৈকট্য) থেকে বিচ্যুত করার শপথ করে।
قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
[শয়তান আল্লাহর উদ্দেশ্যে] বলল: আমি আপনার সম্মানের শপথ করছি যে আমি তাদের সবাইকে বিভ্রান্ত করব।
সূরা সাদ, আয়াত: ৮২।
এই কাহিনীটি পবিত্র কুরআনের আয়াতে বিশদভাবে বলা হয়েছে যেমন সূরা আল-বাকারার ৩৪ থেকে ৩৯ নম্বর আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী, শয়তান মানুষকে প্রলোভন ও প্ররোচনা দিয়ে গুনাহ ও অবহেলার মাধ্যমে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে।
আল্লাহ বারবার কুরআনে শয়তানকে মানুষের শত্রু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন:
وَلَا يَصُدَّنَّكُمُ الشَّيْطَانُ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ:
শয়তান যেন তোমাদেরকে নিবৃত্ত না করে। সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। 
সূরা যূখরুফ, আয়াত ৬২।
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আয়াতুল্লাহ মোহসেন ক্বারায়াতী তার তাফসীরে নূরে বলেন: 
১। হযরত আদম ও হাওয়াকে প্রতারিত কারার ফলে শয়তানের ইতিহাস সকলের কাছে প্রকাশিত হয়েছে। «عَدُوٌّ مُبِينٌ»
২। শয়তানের প্রলোভনগুলি জানার জন্য প্রতিফলন এবং যুক্তির প্রয়োজন হয় না, কারণ মানব প্রকৃতি সহজেই বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতার বিষয়টি বুঝতে পারে। «عَدُوٌّ مُبِينٌ»
 
এখন দেখতে হবে শয়তান যে মানুষের শত্রু তা জানার প্রয়োজন কি? যদি আমরা মেনে নিই যে মানুষ এমন একটি প্রাণী যে পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে বেড়ে উঠতে এবং বিকাশ করতে চায়, তাহলে তার উন্নতির পথে বাধাগুলো জানতে হবে। তদনুসারে, এই শত্রু এবং তার প্রভাবের উপায়গুলি জানা প্রতিটি মানুষের অন্যতম প্রধান কর্তব্য।
 
 
 
সংশ্লিষ্ট খবর
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* :