IQNA

কুরআন কি বলে/৩৭

গরীবদের সাহায্য করার জন্য আল্লাহকে ঋণ প্রদানের কুরআনিক ব্যাখ্যা

15:31 - November 27, 2022
সংবাদ: 3472890
তেহরান (ইকনা): মহান আল্লাহকে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি কুরআনে সাতবার উল্লেখ করা হয়েছে, যা একটি সামাজিক শৃঙ্খলা নির্দেশ করে, যার অর্থ অভাবীকে সাহায্য করা। এই ব্যাখ্যার গোপন অর্থ রয়েছে যা আকর্ষণীয়।

মহান আল্লাহকে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি কুরআনে সাতবার উল্লেখ করা হয়েছে, যা একটি সামাজিক শৃঙ্খলা নির্দেশ করে, যার অর্থ অভাবীকে সাহায্য করা। এই ব্যাখ্যার গোপন অর্থ রয়েছে যা আকর্ষণীয়।

 

«مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

 

কে এমন আছে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে? যাতে আল্লাহ তা তার জন্য কয়েক গুণ বর্ধিত করেন। এবং আল্লাহই (জীবিকাকে) সঙ্কুচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা (প্রাচুর্য) দান করেন। আর তাঁর দিকেই তোমরা প্রত্যাবর্তন করবে।

সূরা বাকারা, আয়াত: ২৪৫। 

আল্লাহকে ঋণ দেওয়া মানে দাতব্য (দরিদ্রদের সাহায্য করা) যা আল্লাহর পথে করা হয়। উপরোক্ত আয়াতের অর্থ এই যে, ইনফাক ও দান আপনার সম্পদকে হ্রাস করবে এমনটি ভাববেন না, বরং আপনার রিযিকের প্রসার ও সীমাবদ্ধতা আল্লাহর হাতে।

আল্লাহকে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি কুরআনে সাতবার উল্লেখ করা হয়েছে। মাজমাউল বায়ান তাফসিরে কারযুল হাসনার শর্তগুলো বলা হয়েছে:

১। হালাল সম্পত্তি হতে হবে।

২। এটা স্বাস্থ্যকর হতে হবে। 

৩। এটি ব্যবহারের জন্য তার প্রয়োজনীয়তা থাকতে হবে।

৪। এটা অনুতপ্তহীন হতে হবে।

৫। রিয়া-হীন হতে হবে। 

৬। গোপনীয় ভাবে হতে হবে। 

৭। ভালবাসা এবং ত্যাগের সাথে পরিশোধ করা। 

৮। দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।

৯। ঋণদাতাকে এই সাফল্যের জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাতে হবে। ১০। ঋণগ্রহীতার সুনাম রক্ষা করতে হবে।

 

আরবীতে " قرض" শব্দের অর্থ “কাটা” এবং প্রকৃতপক্ষে একটি ঋণকে " قرض"/“ক্বারজ” বলা হয় কারণ সম্পত্তির একটি অংশ কেটে নেওয়া হয় এবং পুনরায় ফেরত নেওয়ার জন্য দেওয়া হয়।

জিহাদ কখনো জীবনের সাথে, যা এই আয়াতের পূর্বে আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কখনো তা অর্থ ও সম্পদের সাথে, যা এই আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহকে ঋণ দেওয়ার ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায় যে, উত্তম ঋণের প্রতিদান আল্লাহর দায়িত্বে। ধার দেওয়ার আদেশের পরিবর্তে, তিনি জিজ্ঞাসা করেন কে আল্লাহকে ধার দেবে, যাতে লোকেরা অনিচ্ছা এবং বাধ্যতা বোধ না করে, তবে স্বেচ্ছায় এবং উত্সাহ দিয়ে অন্যকে ঋণ দেয়।

ঋণদাতাদের জন্য মহান আল্লাহর পুরস্কার ইহকাল এবং পরকালে উভয়ই রয়েছে। কারণ  «أَضْعافاً كَثِيرَةً»  ছাড়াও তিনি বলেছেন: وَ إِلَيْهِ يُرْجَعُونَ "তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে" যেন কিয়ামতের হিসাব পার্থিব পুরস্কার থেকে আলাদা।

মুনাফিকরা বলতঃ মুসলমানদেরকে দান করো না, যাতে তারা আল্লাহর রাসূল থেকে দূরে সরে যায়। কুরআন তাদের উত্তর দেয়: " তারা এমন লোক যারা বলে, ‘যারা আল্লাহর রাসূলের নিকটে রয়েছে তাদের জন্য কোন কিছু ব্যয় কর না, যাতে তারা ইতঃস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়।’ অথচ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ভাণ্ডারসমূহ একমাত্র আল্লাহরই; কিন্তু কপটাচারীরা তা উপলব্ধি করে না।“

সূরা মুনাফিকূন, আয়াত: ৭।

তাফসিরে নূর হতে এই আয়াতের বার্তাসমূহ

১। মানুষকে সাহায্য করার অর্থ আল্লাহকে সাহায্য করা।«يُقْرِضُ اللَّهَ» بجاى «يقرض الناس»

২। মানুষকে ভালো কাজ করাতে উৎসাহিত করার প্রয়োজন। «فَيُضاعِفَهُ لَهُ أَضْعافاً كَثِيرَةً»

৩। যদি আমরা জানি যে আমাদের অভাব এবং সচ্ছলতা আল্লাহর হাতে, তাহলে আমরা সহজেই ইনফাক করব। «واللّه‌ يَقْبِضُ وَ يَبْسُطُ»

৪। যদি আমরা জানি যে আমরা তার কাছে ফিরে যাব এবং আমরা যা (ঋণ) দিয়েছি তা ফিরিয়ে নেবো, আমরা সহজেই ইনফাক করব।«إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ»

 
সংশ্লিষ্ট খবর
ট্যাগ্সসমূহ: কুরআন কি বলে
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha