IQNA

কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন ব্যক্তিদের চরিত্র/ ১৭

হযরত ইসহাক; বানী ইসরাইলের নবীদের পূর্বপুরুষ

10:46 - December 03, 2022
সংবাদ: 3472926
তেহরান (ইকনা): ইসহাক হলেন হযরত ইবরাহিম (আ.) এর দ্বিতীয় পুত্র যিনি ইসমাইল (আ.)এর পরে নবুওয়ত লাভ করেন। হযরত ইসহাক (আ.) হলেন বনি ইসরায়েলের নবীদের পূর্বপুরুষ এবং পবিত্র কুরআনে যা উল্লেখ করা হয়েছে, ইসহাক (আ.) ছিলেন ইব্রাহিম (আ.) এবং তার মা সারার জন্য আল্লাহর উপহার।

ইসহাক হলেন মহান আল্লাহর প্রেরিত একজন নবী এবং ইবরাহিমের (আ.) দ্বিতীয় পুত্র। ইসহাকের (আ.) মায়ের নাম সারা। তিনি ফিলিস্তিনে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বসবাস করেন। তাঁর জন্ম ইসমাইলের (আ.) পাঁচ বা ১৩ বছর পর হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। হযরত ইসহাক (আ.) যখন জন্মগ্রহণ করেন, ইবরাহিমের বয়স ছিল ১০০ বছরের বেশি এবং তার মায়ের বয়স ৯০ বছর।
পবিত্র কুরআনের আয়াত অনুসারে, আল্লাহ ইসহাকের জন্মের সংবাদ তার পিতামাতাকে দিয়েছেন:
وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةٌ فَضَحِكَتْ فَبَشَّرْنَاهَا بِإِسْحَاقَ وَمِنْ وَرَاءِ إِسْحَاقَ يَعْقُوبَ
এবং তার স্ত্রী সে স্থলে দাঁড়িয়েছিল, (এ কথা শুনে) সে হেসে ফেলল। তখন আমরা তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিলাম এবং ইসহাকের পর ইয়াকুবেরও (সুসংবাদ দিলাম)।
তার ভাই ইসমাইলের মৃত্যুর পর, ইসহাক নবুওয়তের স্থলাভিষিক্ত হন এবং তার পরে সকল নবী ছিলেন ইসহাকের বংশের, শুধুমাত্র মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ব্যতীত; তিনি ছিলেন ইসমাইলের বংশধর।
পবিত্র কুরআনে ইসহাকের নবুওয়ত সম্পর্কে ৮টি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আয়াত রয়েছে; তার মধ্যে ইসহাকের নবুওয়ত সম্পর্কে, তার সন্তানদের কাছে পবিত্র কিতাব নাযিল করা, ইসহাককে শরিয়ত প্রদান, তার প্রতি ওহী নাযিল করা, তাকে অনুসরণ করার নির্দেশ এবং ইসহাকের ইমামতের কথা উল্লেখ করা। এই আয়াতগুলোতে ইসহাকের ধর্ম ও শরিয়ত ছিল তার পিতা হযরত ইবরাহিমের (আ.) ধর্ম, অর্থাৎ দ্বীনে হানিফ, যা একেশ্বরবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত।
অবশ্য এই আয়াতগুলোর কোনোটিতেই তাঁর ওপর অবতীর্ণ আসমানী কিতাবের কথা উল্লেখ নেই। ঐতিহাসিক সূত্রে অনুসন্ধান করে এমন কিছু পাওয়া যায়নি যা তার জন্য একটি আসমানী গ্রন্থের অস্তিত্ব নির্দেশ করে।
পবিত্র কুরআনে ইসহাকের জন্য যে অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে আমরা ঐক্য, ন্যায়পরায়ণতা, ইমামতি, আন্তরিকতা, শক্তি ও অন্তর্দৃষ্টি উল্লেখ করতে পারি।
তাওরাতে ইবরাহিমের সন্তানদের একজনকে কুরবানি করার বিষয় উল্লেখ রয়েছে এবং সেটি হযরত ইসহাকের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইহুদিরা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ হযরত ইবরাহিমকে ইসহাককে কুরবানি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
৪০ বছর বয়সে ইসহাক রাফিকা নামে একটি মেয়েকে বিয়ে করেন এবং তাদের ঘরে য়েইস এবং ইয়াকুব নামে দুটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেন।
তাওরাত গ্রন্থের জেনেসিসে যা উল্লেখ করা হয়েছে, ইসহাক (আ.) তার জীবনের শেষ দিকে, যখন তিনি বৃদ্ধ এবং অন্ধ ছিলেন, তখন তার সন্তানদের একজনকে তার কার্যনির্বাহক হিসেবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এই পদটি ইয়াকুবের (আ.) কাছে অর্পিত হয়েছে।
কিছু মুফাস্সির এবং ঐতিহাসিকদের মতে, হযরত ইসহাক ১৬০ বছর বেঁচে ছিলেন এবং বর্তমান ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের কাছে হেবরন শহরের তাকে কবর দেওয়া হয়।
 
সংশ্লিষ্ট খবর
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha