IQNA

কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন ব্যক্তিদের চরিত্র/ ১৮

হযরত ইয়াকুবের ৫০ বছরের পরীক্ষা

0:03 - December 07, 2022
সংবাদ: 3472949
তেহরান (ইকনা): ঐশ্বরিক নবীরা ছিলেন আল্লাহর বিশেষ বান্দা। যারা ঐশ্বরিক পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। এই ঐশ্বরিক পরীক্ষার মধ্যে ছিল হযরত ইউসুফের (আ.) ৫০ বছরের অনুপস্থিতি, যা তার পিত হযরত ইয়াকুবকে (আ.) একটি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করেছিল।

হযরত ইয়াকুব (আ.) ছিলেন ইসহাকের পুত্র, ইব্রাহীম (আ.)এর নাতি এবং মহান আল্লাহর একজন নবী। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে হযরত ইব্রাহীমের (আ.) কাছে ইসহাক ও ইয়াকুবের জন্মের খবর দিয়েছেন।
হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর ডাকনাম হল ইসরাইল, এবং ইসলামী ও ইহুদি বইয়ে বর্ণিত রেওয়ায়ত অনুসারে, এই ডাকনামটি আল্লাহ তাকে দিয়েছিলেন যাতে তিনি এর মাধ্যমে বরকত লাভ করেন। বলা হয় যে, ইসরাইল শব্দের অর্থ হচ্ছে "আল্লাহর বান্দা"।
ইয়াকুবের নাম পবিত্র কুরআনের ১০টি সূরায় মোট ১৬ বার এবং ইসরাইলের নাম আল-ইমরান ও মরিয়ম সূরায় দুবার উল্লেখ করা হয়েছে।
মাজামা আল-বায়ানে তাবারসি ইসরাইলকে ইয়াকুব বলে সম্বোধন করেছেন; এবং তিনি বলেন, "ইসরা" অর্থ বান্দা এবং "ইল" অর্থ আল্লাহ এবং এই শব্দের অর্থ হচ্ছে আল্লাহর বান্দা।
হযরত ইয়াকুবের উপাধি "ইসরাইল" এবং তাকে বনী ইসরাইলের পিতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কারণ ইয়াকুবের বংশধরদের মধ্য থেকে অনেক নবী প্রেরিত হয়েছিল। এছাড়াও কুরআনে ইয়াকুবকে ‘ইমাম’ উপাধি দেওয়া হয়েছে।
হযরত ইসহাক (আ.) তার ছেলে ইয়াকুবকে (আ.) মেসোপটেমিয়ার মেয়েদের বিয়ে করতে বলেছিলেন, যারা হযরত নূহ (আ.)এর বন্যা থেকে বেঁচে গিয়েছিল এবং এই নবীও তার পিতার অনুরোধ মেনে নিয়েছিলেন। তিনি ইলিয়া এবং রাহেল নামে দুই বোনকে বিয়ে করেছিলেন। অবশ্য রেওয়ায়েত অনুযায়ী প্রথম বোনের মৃত্যুর পর ইয়াকুব দ্বিতীয় বোনকে বিয়ে করেন।
তিনি প্রথমে ইলিয়াকে বিয়ে করেছিলেন এবং সেই ঘরে ছয়টি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তারপর তিনি মারা যান এবং ইয়াকুব (আ.) তার প্রথম স্ত্রীর বোন রাহেলকে বিয়ে করেন এবং তাদের ঘরে হযরত ইউসুফ (আ) এবং বেনিয়ামিনের জন্ম হয় এবং তার অন্য দুই স্ত্রীর থেকে আরও চারটি পুত্রের জন্ম হয়।
পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হযরত ইয়াকুবের (আ.) নাম উল্লেখ থাকলেও পুত্র ইউসুফের (আ.) দূরত্বের কারণে হযরত ইয়াকুবের কাহিনী বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুত্র ইউসুফ (আ.) থেকে তার বিচ্ছেদ এবং কিভাবে তার সাথে আবার দেখা হয় তার কাহিনী সূরা ইউসুফে বর্ণিত হয়েছে।
কুরআনে ইয়াকুবের অন্ধ হওয়ার গল্পও বলা হয়েছে, তিনি তার ছেলে ইউসুফ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর অনেক বছর ধরে কেঁদেছেন এবং এর ফলে তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায়। ঐতিহাসিক রেওয়ায়ত অনুসারে, এই দূরত্ব প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। পুত্র ইউসুফকে খুঁজে পাওয়ার পর ইয়াকুব মিশরে চলে যান এবং সেখানে কিছুকাল বসবাস করেন।
৫০ বছর ধরে হযরত ইয়াকুব (আ.) কেনানবাসীদের হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সঠিক পথ ও শরিয়তের দাওয়াত দিয়েছিলেন।
ইয়াকুব (আ.) সমস্ত ঐশ্বরিক নবীদের মতন বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও সুযোগ-সুবিধা অধিকারী ছিলেন। যার মধ্যে তিনি ছিলেন আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তিদের একজন; তিনি একজন ধার্মিক বান্দা ও উপাসক ছিলেন; তার সহজাত জ্ঞান ছিল; তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে জানতেন এবং তার সুন্দর ও অনুকরণীয় ধৈর্য ছিল।
ইয়াকুব (আঃ)এর সময় তিনি সর্ব প্রথম মসজিদে প্রবেশ করতেন এবং সর্বশেষে মসজিদ থেকে বের হতেন এবং সন্ধ্যায় সেই মসজিদের বাতি জ্বালাতেন এবং ভোরে নিভাতেন।
তিনি ১৪০ বা ১৪৭ বছর বয়সে মারা যান এবং তাঁর ওসিয়ত অনুসারে, তাঁর দেহ দাফনের জন্য ফিলিস্তিনে স্থানান্তরিত করা হয় এবং হেবরনের মেকফিলেহ গুহায় কবর দেওয় হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha