IQNA

কুরআনে বিভিন্ন ব্যক্তিদের চরিত্র – ১০

হুদ নবী; প্রথম আরব নবী

8:59 - October 03, 2022
সংবাদ: 3472572
তেহরান (ইকনা): হযরত হুদ (আ.) হচ্ছেন হজরত নূহের (আ.) বংশধরদের মধ্যে একজন নবী। তিনি তার জাতিকে হেদায়েত করার জন্য ৭০০ বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করেছিলেন, কিন্তু তিনি সফল হননি এবং আল্লাহ তার গোত্রকে কঠিন শাস্তিতে অবনিত করেছিলেন। যে আযাব তাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছে।

হযরত হুদ ছিলেন ঐশ্বরিক নবীদের একজন এবং হযরত নূহের বংশধরদের একজন। তার বংশ মাত্র সাতজন মধ্যস্থতার মাধ্যমে হযরত নূহেরে কাছে পৌঁছেছে।
এই ঐশী নবীর জীবন ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন বক্তব্য রয়েছে; কেউ কেউ ইব্রাহীম (আ.)-এর পরে এবং মূসা (আ.)-এর আগে হুদ (আ.)-এর জীবনের সময়কে বিবেচনা করেছেন এবং কেউ কেউ ইব্রাহিম (আ.)-এর আগে হুদ (আ.)-এর সময়কে বিবেচনা করেছেন। তার জন্ম যখনই হোক না কেন তিনি হযরত নূহ (আ.)-এর বংশধর ছিলেন, কিন্তু হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশধরের মধ্যে যেসকল নবীদের বিবেচনা করা হয় তার মধ্যে তিনি ছিলেন না।
হুদ আরবি ভাষায় কথা বলতেন এবং কেউ কেউ তাকে আরবের প্রথম নবী বলে মনে করেন। যেমন ইমাম আলী (আ.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "হুদ (আ.), সালেহ (আ.), শোয়েব (আ.), ইসমাইল (আ.) এবং ইসলামের নবী (সা.) আরবি বলতেন।"
পবিত্র কুরআনে হুদের নাম ১০ বার উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১১তম সূরার নামও ‘হুদ’ রাখা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে হযরত হুদ (আ.)-এর কাহিনী বহুবার উল্লেখ করা হলেও, আমাদের কাছে বর্তমানে যে তাওরাত ও বাইবেল গ্রন্থ রয়েছে, তাতে এই নবীর নাম উল্লেখ নেই।
হযরত হুদ (আ.) চল্লিশ বছর বয়সে নবী হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন নূহ (আঃ)-এর পর দ্বিতীয় নবী যিনি মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তিনি আদ সম্প্রদায়ের নবী ছিলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর ইবাদত করার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এবং মূর্তি পূজা থেকে বিরত রাখার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু যদিও তাঁর সম্প্রদায় হুদকে একজন বিশ্বস্ত ও সৎ ব্যক্তি মনে করতো, এ সত্ত্বেও তারা তাকে পাগল বলতো এবং তাকে উপহাস করতো। অতএব, আল্লাহ তাদের প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাস দিয়ে শাস্তি দেন। এই আযাব থেকে আদ সম্প্রদায়ের শুধুমাত্র হযরত হুদ এবং কিছু মুমিন বেঁচে ছিলেন। পবিত্র কুরআনের আয়াত অনুসারে, এই ঠান্ডা বাতাস "টানা সাত রাত এবং আট দিন" তাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। আরবের ইতিহাসে এমন কিছু দিন আছে যা বুড়ির ঠান্ডা দিন (বারদু আল-আজুজ) নামে পরিচিত, যেগুলোকে কেউ কেউ আদ সম্প্রদায়ের শাস্তি বলে মনে করেন।
বলা হয়েছে যে হযরত হুদ (আ.) ৭৬০ বছর ধরে তাঁর জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন। হযরত হুদের দীর্ঘ জীবন এবং আরও কিছু নিদর্শনের কারণে কিছু পণ্ডিত হযরত নূহ (আ.) এবং হযরত হুদ (আ.)-এর মধ্যে মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও, পবিত্র কুরআনে এই দুই নবীর উদ্ধৃত বাক্যের অনেক মিল রয়েছে।
রেওয়ায়ত অনুযায়ী হযরত হুদ ও তাঁর অনুসারীরা মক্কায় গিয়ে বসতি স্থাপন করেন এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। কেউ কেউ দামেস্ককে হুদের কবরস্থান বলেও উল্লেখ করেছেন। সিরিয়ার হোমস এবং ইরাকের নাজাফ হল অন্যান্য স্থান যেগুলোকে হযরত হুদের সমাধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha