IQNA

তাফসীর ও মুফাস্সিরদের পরিচয়/ ৫

"আল ফুরকান"; একটি তাফসীর যার প্রশংসা আল্লামা তাবাতাবায়ী করেছেন

17:50 - October 04, 2022
সংবাদ: 3472582
তেহরান (ইকনা): সমসাময়িক তাফসিরগুলির মধ্যে একটি তাফসির যা বিভিন্ন উপায়ে প্রশংসিত এবং পণ্ডিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে, তা হল সাদেক্বী তেহরানির "আল-ফুরকান" তাফসির।

সমসাময়িক তাফসিরগুলির মধ্যে একটি তাফসির যা বিভিন্ন উপায়ে প্রশংসিত এবং পণ্ডিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে, তা হল সাদেক্বী তেহরানির "আল-ফুরকান" তাফসির। "আল-ফুরকান" হল পবিত্র কুরআনের সমস্ত আয়াতের সম্পূর্ণ তাফসির গ্রন্থ। এই তাফসির গ্রন্থটি টানা ১৪ বছরে ৩০টি খণ্ডে আরবি ভাষায় সংকলিত হয়েছিল। বর্ণিত আছে যে, আল্লামা তাবাতাবায়ী এই তাফসীরের বেশ কয়েকটি খণ্ড দেখার পর একে উজ্জ্বলতার উৎস এবং গর্বের উৎস বলে মনে করেছেন।
 
"আল ফুরকান"-এর লেখক সম্পর্কে
মোহাম্মদ সাদেক্বী তেহরানি (১৯২৬-২০১১ খ্রি.) সমসাময়িক যুগে একজন শিয়া ফকিহ এবং মুফাস্সির ছিলেন। তিনি আয়াতে এযাম মোহাম্মদ আলী শাহ আবাদী, মোহাম্মদ হোসাইন জাহিদ, বাক্বের আশতিয়ানী, সৈয়দ সদরুদ্দিন জাযায়েরী, মেহেদী আশতিয়ানি, আহমদ আশতিয়ানি, সৈয়দ আবুল হাসান রাফেয়ী, আয়াতুল্লাহ বুরুজেরদী এবং আল্লামা তাবাতাবায়ী’র মতো মহান আলেমদের ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছেন। সাদেক্বী তেহরানির বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তিনি কুরআনকে ইসলামী বিজ্ঞানের অক্ষ বলে মনে করতেন।
তার একাডেমিক ক্রিয়াকলাপ ছাড়াও, সাদেক্বী ছিলেন সেই রাজনৈতিক যোদ্ধাদের একজন যাকে ১৯৬২ সালে মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে কোমের গ্র্যান্ড মসজিদে তার কঠোর বক্তৃতার কারণে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে অন্যায় ভাবে তার বিচার করা হয়েছিল। তিনি তার বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সৌদি আরব, ইরাক ও লেবাননে সতেরো বছর পাহলভি সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের পর তিনি কয়েকটি শহরে জুমার নামাজের পেশ ইমাম হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি শুধুমাত্র লেখালেখিতে করতেন। জীবনের শেষ অবধি পর্যন্ত সাদেক্বী শিক্ষকতা করেছেন। তার অনেক কাজ রয়েছে যার মধ্যে ত্রিশ খণ্ডের তাফসির "আল-ফুরকান ফি তাফসির আল-কুরআন বিল-কুরআন ও সুন্নাহ" তার অন্যতম কাজ।
তাফসিরের বৈশিষ্ট্য
সাদেক্বীর তাফসিরের পদ্ধতি হল কুরআন থেকে কুরআনের তাফসির পদ্ধতি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন: "কুরআন থেকে কুরআনের তাফসির করার পদ্ধতি ব্যতীত সমস্ত তাসফিরের পদ্ধতিই ভুল এবং এটি নবী (সা.) এবং ইমামদের (আ.) তাফসিরের পদ্ধতি। মুফাস্সিরদের উচিত এধরণের তাফসির করার জন্য মাসুম বা নিষ্পাপ শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা অর্জন করা এবং তা আয়াতের তাফসিরে প্রয়োগ করা”।
অন্য জায়গায়, তিনি লিখেছেন: "তাফসিরের পদ্ধতি দুটি অবস্থার বাইরে নয়; হয় তা কুরআন থেকে কুরআনের তাফসির, না হয় তা কুরআন থেকে রায়’য়ের তাফসির।
আরেকটি বিষয় হল যে, সাদেক্বী তেহরানী সম্পূর্ণ আল-ফুরকান রচনা করেছেন আরবি ও ফারসি উভয় ভাষায় চিন্তাভাবনা ও শিক্ষাদানের পর এবং বারবার আয়াতগুলো পরীক্ষা করে সম্পূর্ণ আল-ফুরকান রচনা করেছেন। এই কারণে, এটি সর্বপ্রথম তাফসীরগুলির মধ্যে রয়েছে যা কুরআনের সমস্ত আয়াতের তাফসিরের সম্পূর্ণ শিক্ষা দেওয়ার পরে রচিত হয়েছিল।
সামাজিক বিষয়
ফুরকানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করা। তাফসির আল-ফুরকান সমাজের সামাজিক সমস্যা এবং বাস্তবতা নিয়ে কাজ করেছে এবং বিভিন্ন তাফসিরে, কখনো স্বাধীন অধ্যায়ে আবার কখনো কোনো আয়াতের বর্ধিত ব্যাখ্যায় তিনি সরকার ব্যবস্থা, অর্থনীতি, নারীর অধিকার ও মর্যাদা, শূরা/মসনদ, মুসলিম ঐক্য, সামাজিক শ্রেণী প্রভৃতি বিষয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি মন্তব্য বা সমালোচনা এবং মতামত প্রত্যাখ্যান করার জন্য আয়াত ব্যবহার করেছেন।

 

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha