IQNA

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন

20:56 - June 06, 2026
সংবাদ: 3479269
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে তুরস্কের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন।
ইকনা জানায়, আনাতোলিয়ার বরাতে—হাকান ফিদান তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিকা)-এর বহুমুখী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। শিবিরের শিশুরা ফুল দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানায়।
 
পরিদর্শনকালে ফিদান কম্পিউটার ও রোবটিক্স কর্মশালা ঘুরে দেখেন এবং সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপহার ও পুরস্কার বিতরণ করেন এবং তাদের সঙ্গে স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ছবি তোলেন।
 
এর আগে শুক্রবার ফিদান বলেছিলেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের অবস্থা “অত্যন্ত মর্মান্তিক”। তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এখানে একটি মানবিক বিপর্যয় ঘটছে। তুরস্কের সাহায্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছেছে, এখানেও পৌঁছেছে। তবে আমরা আশা করি এমন বিপর্যয় যেন কখনো না ঘটে এবং আমাদের কখনো এখানে সাহায্য করতে না হয়।”
 
ফিদান তুরস্কের সাহায্য শুধু আশেপাশের অঞ্চলে নয়, দূরবর্তী সংকটপূর্ণ এলাকাতেও পৌঁছানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান মজলুম ও অসহায় মানুষের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল।
 
তিনি উল্লেখ করেন, এই শিবিরগুলোতে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাস করছেন। তুরস্কের সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো সংকটের প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে।
 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিকা, আফাদ, তুর্কি লালচাঁদ ও অন্যান্য তুর্কি সংস্থাগুলো যে কাজ করছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যা আমরা এখানে দিচ্ছি, তা সাময়িক সাহায্য। আমার সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক ও কৌশলগত পর্যায়ে আমাদের ভাই-বোনদের এই সাময়িক অবস্থা থেকে স্থায়ী ও উন্নত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কীভাবে কাজ করা যায়, তা পর্যালোচনা করা।”
 
রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নির্যাতন, যা ২০১৭ সালে চরম আকার ধারণ করে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক হামলার ফলে ৯ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। 4356640#
captcha