IQNA

18:13 - May 28, 2022
সংবাদ: 3471916
তেহরান (ইকনা): ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বিরোধিতা ও হুশিয়ারি সত্ত্বেও ইহুদিবাদীরা আগামীকাল (২৯ মে) পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে কথিত পতাকা মিছিল বের করবে।
ইহুদিবাদী ইসরাইল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে মুসলমানদের প্রথম কিবলা হিসেবে খ্যাত আলআকসা মসজিদের শহর তথা বায়তুল মুকাদ্দাসের পূর্ব অংশ দখল করে। সেই থেকেই বিষয়টিকে বিজয়ের স্মরণ হিসবে এই পবিত্র মসজিদের কাছে বা পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসে পতাকা মিছিল করে আসছে দখলদার ইহুদিবাদীরা। 
 
আসলে ইহুদিবাদীরা এই শহরের ইহুদিকরণের অংশ হিসেবে এই মিছিল করতে চায়।
 
গত বছর ফিলিস্তিনি সংগ্রামীদের সোর্ড অব কুদস বা কুদস্‌-এর তরবারি শীর্ষক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার বা অব্যাহত থাকার ভয়ে ইহুদিবাদীরা এই মিছিল বের করার সাহস পায়নি। অবৈধ ইহুদি বসতির অধিবাসীরা এই মিছিল বের করতে চাইলেও ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তার অনুমতি দেয়নি। এখন এই উগ্র ইহুদিবাদীরা আশঙ্কা করছে যে এ বছরও যদি তারা পতাকা মিছিল বের করতে না পারে তাহলে প্রতি বছরই ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের মুখে এই মিছিলের আয়োজন বাতিল হয়ে যাবে। আর তাই তারা এ বছর এই মিছিল অনুষ্ঠানের জন্য বেশ পীড়াপীড়ি করছে।
 
এদিকে নাফতালি বেনেট ও ইয়ায়ের লাপিদের নেতৃত্বাধীন ইসরাইলি জোট সরকার তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি রাজনৈতিক গ্রুপের, বিশেষ করে নেতানিয়াহুর সমর্থন ঠেকানোর জন্য এই মিছিল করার অনুমতি দিয়েছে। 
 
ওদিকে ফিলিস্তিনি গণ-যুব আন্দোলন নামের একটি ফিলিস্তিনি দল আগামীকালকে ফিলিস্তিনি পতাকা দিবস হিসেবে পালনের ডাক দিয়েছে। দলটি কুদস শরিফের প্রতিটি বাড়ি, সড়ক ও স্কয়ার থেকে শুরু আল-আকসা মসজিদের বাবুল আমুদ ত্বোরণ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানিয়েছে।   
 
আলকুদস্-এ ইসরাইলি পতাকা মিছিলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সংগ্রামী দলগুলোর কঠোর হুশিয়ারির প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের কোনো কোনো সংবাদ ও সামরিক মহল এই মিছিল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, ইসরাইল ফিলিস্তিনি গ্রুপগুলোর সঙ্গে নতুন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়। সম্প্রতি যে সামরিক মহড়া ইসরাইল চালিয়েছে তা ইসরাইলি সেনাদের ও ইসরাইলি অভিবাসীদের ভেঙ্গে যাওয়া মনোবল জোড়া লাগাতে ও সামরিক ভারসাম্যের ভাব সৃষ্টি করতেই করা হয়েছে। ইসরাইলি দৈনিক ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধকে বিপর্যয় বলে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। 
 
ইসরাইলিদের কোনো কোনো মহলের ভয় বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ হল ফিলিস্তিনিদের প্রায় সব দলই এখন বায়তুল মুকাদ্দাস ও এর সম্মান রক্ষার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ এবং এ অঞ্চলে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ মোকাবেলায় তাদের দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস, ঐক্য ও সমন্বয় অসাধারণ মাত্রায় বেড়ে গেছে। ইসরাইলের সঙ্গে আপোষের ধারণার প্রতি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনও প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
 
 বিস্ফোরন্মুখ এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলি মন্ত্রীসভা পতাকা মিছিলের নিরাপত্তা দিতে বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের পুরনো অংশে তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে। এটা স্পষ্ট যে উস্কানিমূলক এই পতাকা মিছিল ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি দখলদারদের মধ্যে নতুন সংঘাতের পথ অনিবার্য করে তুলতে পারে। iqna
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: