IQNA

কুরআন কি বলে/১৩

আল্লাহকে জানার ক্ষেত্রে কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পুণ্যময় আয়াত

18:56 - June 28, 2022
সংবাদ: 3472057
তেহরান (ইকনা): "আয়াতুল কুরসি" নামক পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত রয়েছে যা অতি গুরুত্বপূর্ণ ও পূণ্যময় আয়াত। পবিত্র কুরআনুল কারিমের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আয়াত আয়াতুল কুরসি। এ আয়াত পাঠের ফজিলত অসংখ্য। 
পবিত্র কুরআন শরিফের দ্বিতীয় সূরা বাকারা। সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত আয়াতুল কুরসি নামে পরিচিত। এটি কোরআন শরিফের প্রসিদ্ধ আয়াত। পুরো আয়াতে আল্লাহর একত্ববাদ, মর্যাদা ও গুণের বর্ণনা থাকার কারণে আল্লাহ তাআলা এ আয়াতের মধ্যে অনেক ফজিলত রেখেছেন। এটি পাঠ করলে অসংখ্য পুণ্য লাভ হয়।
 
আয়তুল কুরসি মুসলমানদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সূরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং পুণ্যময় আয়াত। ইসলামের শুরু থেকেই এই আয়াতটি "আল-কুরসি আয়াত" নামে পরিচিত এবং নবী করিম (সা.) এই আয়াতের জন্য “আয়াতুল কুরসি” শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন।
সুনির্দিষ্ট এবং সূক্ষ্ম শিক্ষার কারণে এই আয়াতের জন্য বিশেষ সম্মান রয়েছে। তৌহিদ বা একেশ্বরবাদ যা «الله لا اله الا هو» "আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া" বাক্যাংশ দ্বারা নিহিত এবং সমস্ত ঐশী নামের সংযোগ ও নির্ভরতা এই আয়াতের মধ্যে লুকায়িত রয়েছে। 
«اَللَّـهُ لَا إِلَـهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ  لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ  يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ  وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ ».
আল্লাহ সে-ই (পরম সত্তা) যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, (তিনি) চিরঞ্জীব-স্থিতিদাতা (বিশ্বজগতের রক্ষক); না তাঁকে তন্দ্রা আচ্ছন্ন করে, আর না নিদ্রা; যা আকাশমণ্ডলীতে আছে এবং যা পৃথিবীতে আছে (সব কিছু) তাঁরই; কে এমন আছে যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট (কারও জন্য) সুপারিশ করে; যা কিছু তাদের সম্মুখে (বিদ্যমান) আছে (তা) এবং যা কিছু তাদের পশ্চাতে আছে (বিগত হয়েছে), তিনি তা অবগত। তারা (মানুষ) তাঁর জ্ঞানের একটি অংশও আয়ত্ত করতে পারে না, তবে যতটুকু তিনি চান (শিক্ষা দেন)। তাঁর কুরসি আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে; এবং এ দু’টির তত্ত্বাবধান (ও সংরক্ষণ) তাঁর পক্ষে কঠিন নয়; এবং তিনি অতি উচ্চ, মর্যাদাময়। 
এই আয়াতে আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণবাচক নাম ষোল বার উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আল-কুরসির আয়াতটিকে একেশ্বরবাদের শ্লোগান ও বাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই আয়াতের «لااله الاّ اللّه» - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু – অংশটি প্রত্যেক মুসলমানের পরিচয়পত্রের প্রথম পৃষ্ঠা, ইসলামের নবীর (সা.) প্রথম শ্লোগান ও দাওয়াত এবং মানুষের মুক্তি ও পরিত্রাণের উৎস - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু – তে ঈমান আনার মধ্যে নিহত রয়েছে। একেশ্বরবাদে বিশ্বাস মানুষের দৃষ্টিতে সমস্ত শক্তি ও আকর্ষণকে ম্লান করে দেয়। একেশ্বরবাদের শিক্ষাগত প্রভাবের কারণেই মুসলমানরা রাজা এবং ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সামনে সেজদা বা মাথা নত করেনি।
মহান আল্লাহর সত্তার সারাংশ সম্পর্কে «حیات» "হায়াত" এর অর্থ হল যে এর কোন শেষ নেই এবং ধ্বংস হবে না। «قَیّوم»  কাইয়ুম মানে মহান আল্লাহ চিরঞ্জীব-স্থিতিদাতা ও সর্বাত্মক প্রতিষ্ঠা।«لاتأخذه سنةٌ و لانوم» অর্থ হল, তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা আচ্ছন্ন করে না। অর্থাৎ দুনিয়ার প্রতি তাঁর মনোযোগ এক মুহূর্তের জন্যও বিঘ্নিত হয় না এবং «له ما فى السموات و ما فى الارض» অর্থ হল, আসমান ও জমিনের সবকিছুর প্রকৃত মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। 
আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত, কারও কাছে সুপারিশের ক্ষমতা নেই, যা এটি শক্তি এবং ইচ্ছার মধ্যে আল্লাহর একত্বের উপর পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে। তদনুসারে, আল্লাহের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে এমন কোনও মূর্তি বা প্রাণীকে সম্পূর্ণ রূপে অস্বীকার করা হয়েছে। মহান আল্লাহ ব্যতীত কেউ সুপারিশ করতে পারবে না; কিন্তু যদি তিনি যদি কাউকে সুপারিশ কারার অধিকার দেন, তাহলে তারাও সুপারিশ করতে পারবেন «الا باذنه».
«كرسي»  "চেয়ার" শব্দটির মাধ্যমে আকার’কে বোঝানো উচিত নয় যে, উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ একটি সিংহাসন রয়েছে যেখানে তিনি বসে আছেন। এমন ধারণা সম্পূর্ণরূপে ভুল।  এ ব্যাপারে আল্লামা তাবাতাবায়ী বলেন: চেয়ার সর্বশক্তিমান আল্লাহর জ্ঞানের স্তরগুলির মধ্যে একটি স্তর। এই আয়াতে কুরসি বা চেয়ার জ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে যার পরিমাপ কেউ করতে পারবে না। এই অভিব্যক্তিগুলি আসমান ও পৃথিবী এবং বস্তুগত ও জড়জগতকে ঘিরে তাঁর বেষ্টনী নির্দেশ করে, যা আল্লাহ কর্তৃক রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এবং তিনিই আধিপত্য করেন।
আয়াতের «یعلم ما بین ایدیهم و ما خلفهم» অংশের মাধ্যমে অসীম জ্ঞানের কথা বোঝানো হয়েছে যা চেয়ার শব্দের সাথে সম্পর্কিত রয়েছে।
এটি সেই অবস্থান যেখানে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ এবং সময় ও স্থান এবং অনুরূপ সমস্ত জিনিস এক জায়গায় একত্রিত হয় এবং এটিই ঐশ্বরিক জ্ঞান যাকে চেয়ার হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট খবর
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* :